ডাঁটা
কচি অবস্থায় শাক, বড় হলে রসালো ডাঁটা। গ্রীষ্ম আর বর্ষায় যখন শাক কম, তখন ডাঁটা দ্রুত বাড়ে আর ফলন দেয়।
- নাম
- ডাঁটা · Stem amaranth · Amaranthus spp.
- পরিবার
- নটেজাতীয় (অ্যামারান্থেসি)
- জাতের ধরন
- দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত; সবুজ ও লাল ডাঁটার জাত
- বপন বা রোপণ
- ফাল্গুন–আষাঢ় (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য জুলাই)
- দূরত্ব
- ডাঁটার জন্য সারি থেকে সারি প্রায় ৩০ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ১০–১৫ সেমি
- ফসল তোলা
- শাক প্রায় ৩০ দিনে; ডাঁটা প্রায় ৪৫–৬০ দিনে · বৈশাখ–শ্রাবণ
- বীজ সংগ্রহ
- শ্রাবণ–ভাদ্র
- বীজের আয়ু
- প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি ডাঁটার জাত সবুজ বা লাল কাণ্ডের, কোনোটা মোটা ও লম্বা, কোনোটা দ্রুত বাড়া সরু। বারির মুক্ত-পরাগায়িত ডাঁটার জাতও আছে। ডাঁটা আর লালশাক একই গণের, তাই কাছাকাছি ফুল ফুটলে সংকর হতে পারে; বীজের গাছ আলাদা সময়ে বা দূরে রাখতে হবে।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডাঁটা বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–আষাঢ় (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য জুলাই), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।
ফাল্গুন থেকে আষাঢ়ে কয়েক দফায় বোনা হয়। বীজ ছোট, তাই ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে সারিতে বা ছিটিয়ে বোনা। কচি শাকের জন্য ঘন করে, আর ডাঁটার জন্য পরে পাতলা করে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
বেড মিহি করে কম্পোস্ট মিশিয়ে তৈরি। বর্ষায় বেড উঁচু ও নালা পরিষ্কার, কারণ জলাবদ্ধতায় গোড়া পচে। ডাঁটা দ্রুত বাড়ে বলে অনেক খাবার চায়; বোনার তিন-চার সপ্তাহ পরে সারির পাশে কেঁচো সার বা পাতলা স্লারি।
পরিচর্যা
- চারা পাতলা করা; তুলে ফেলা চারা শাক হিসেবে।
- গরমে নিয়মিত পানি, গোড়ায় মালচ।
- বর্ষায় নালা দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের করা।
- গোড়ায় মাটি তুলে দিলে লম্বা ডাঁটা হেলে পড়ে না।
- ডাঁটার কাণ্ডে ছিদ্রকারী পোকা দেখলে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় বৈশাখ–শ্রাবণ (মধ্য এপ্রিল – মধ্য আগস্ট)।
কচি শাক এক মাসের কাছাকাছি সময়ে, আর ডাঁটা যখন মোটা ও রসালো কিন্তু ফুল আসেনি, তখন তোলা হয়। ফুল এসে গেলে কাণ্ড শক্ত ও আঁশযুক্ত হয়। বৈশাখ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত বিভিন্ন দফা থেকে তোলা।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা | কাণ্ডে ছিদ্র, ভেতরে কীড়া; গাছ নেতিয়ে পড়ে | আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট; শস্য পর্যায়; ফসল শেষে অবশিষ্টাংশ সরানো |
| শুঁয়োপোকা ও লেদা পোকা | পাতা ঝাঁঝরা, কখনো রাতারাতি অনেক পাতা খেয়ে ফেলে | সকালে হাতে বেছে নষ্ট; ডিমের গাদা পাতা থেকে তুলে ফেলা; নিমের নির্যাস; পাখি বসার জায়গা রাখা |
| গোড়া পচা | বর্ষায় গোড়া কালো ও নরম হয়ে গাছ ঢলে পড়ে | উঁচু বেড; নিষ্কাশন; ঘন না বোনা |
| জাব পোকা | কচি ডগা, পাতার নিচ ও ফুলে ছোট সবুজ-কালো পোকার দল; পাতা কুঁকড়ে যায়, আঠালো রস জমে | সাবান-পানি বা নিমপাতার নির্যাস স্প্রে; আক্রান্ত ডগা কেটে ফেলা; লেডিবার্ড বিটলসহ উপকারী পোকা রক্ষা; হলুদ আঠালো ফাঁদ |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
লালশাকের মতোই বাতাস ও পোকায় পরাগায়ন। বীজের জন্য অন্তত দশ-পনেরোটি গাছ, আর একই সময়ে লালশাক বা অন্য ডাঁটার জাত কাছাকাছি ফুল ফোটাতে না দেওয়া। আমাদের ক্যালেন্ডারে লালশাকের বীজ আসে ফাল্গুন-চৈত্রে, আর ডাঁটার বীজ শ্রাবণ-ভাদ্রে, তাই ফুলের সময় আলাদা থাকে।
- আষাঢ়ে বোনা একটি সারির সবচেয়ে মোটা, সতেজ, জাতের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাছগুলো কাটা বন্ধ করুন।
- গাছে লম্বা মঞ্জরি আসবে; শ্রাবণ-ভাদ্রে মঞ্জরি শুকিয়ে বাদামি হলে কেটে নিন।
- বর্ষার আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে ছাউনির নিচে কাগজ বা কাপড়ের ওপর মঞ্জরি শুকান।
- হাতে ঘষে বীজ ঝরিয়ে কুলায় খোসা উড়িয়ে দিন।
- ভালোভাবে শুকিয়ে কাগজের খামে, তারপর বায়ুরোধী বয়ামে রাখুন।
বীজের আয়ু
ডাঁটার বীজও লালশাকের মতো ছোট আর দীর্ঘজীবী। বর্ষায় সংগ্রহ বলে শুকানোয় বিশেষ যত্ন লাগে; তারপর কয়েক বছর ভালো থাকে।
পুষ্টিগুণ
ডাঁটা ও তার শাকে আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম আর ভিটামিন এ ও সি আছে। ডাঁটা দিয়ে ডাল, মাছের ঝোল, চচ্চড়ি; কচি শাক ভাজি। গরমের দিনে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।