সীড ব্যাংক · কন্দ

মুখীকচু

মুখীকচুর ছোট ছোট কন্দ বা “মুখী” বর্ষার শেষে আর শরতে পাতে আসে। বসন্তে ছোট মুখী লাগালে কয়েক মাসে প্রতিটি গাছের নিচে মুখীর গোছা।

কন্দ, কোয়া বা কাটিং দিয়ে বংশবিস্তারহাইব্রিড নয়রবিখরিফ-১
নাম
মুখীকচু · Taro (cormel type) · Colocasia esculenta
পরিবার
কচুজাতীয় (অ্যারেসি)
জাতের ধরন
দেশি জাত; ছোট কন্দ (মুখী) দিয়ে বংশবিস্তার
মৌসুম
রবি, খরিফ-১
বপন বা রোপণ
ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল)
দূরত্ব
সারি থেকে সারি প্রায় ৬০ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ৪৫ সেমি
ফসল তোলা
লাগানো থেকে প্রায় ৬–৭ মাস · ভাদ্র–আশ্বিন
বীজ সংগ্রহ
আশ্বিন
বীজের আয়ু
এক মৌসুম থেকে পরের মৌসুম; জীবন্ত কন্দ

বারো মাসের সময়সূচি

বৈশাখ
জ্যৈষ্ঠ
আষাঢ়
শ্রাবণ
ভাদ্র
আশ্বিন
কার্তিক
অগ্রহায়ণ
পৌষ
মাঘ
ফাল্গুন
চৈত্র

বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে

জাত ও উৎস

দেশি মুখীকচুর অনেক স্থানীয় ধরন আছে। বারির মুখীকচুর জাতও (যেমন বিলাসী) জনপ্রিয়। কচু সাধারণত বীজ দিয়ে নয়, মুখী বা কন্দ দিয়ে চাষ হয়, তাই প্রতিটি গাছ মা-গাছের মতো। কিছু কচুতে গলা চুলকানির উপাদান বেশি থাকে; যে জাতে চুলকানি কম, সেটাই বাছাই করা হবে।

মৌসুম ও বপন

খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মুখীকচু বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।

ফাল্গুন-চৈত্রে আগের মৌসুমের সংরক্ষিত মাঝারি আকারের সুস্থ মুখী লাগানো হয়। মুখী আগে ছায়ায় ভেজা খড়ের নিচে রেখে অঙ্কুর বের হলে লাগালে গাছ একসাথে ওঠে।

জমি তৈরি ও দূরত্ব

মুখীকচু আর্দ্র কিন্তু জলাবদ্ধতাহীন, উর্বর মাটি চায়। বেডে প্রচুর কম্পোস্ট। পুকুরপাড়ের নিচু অংশ বা ছায়াময় জায়গায়ও ভালো হয়। মুখী পাঁচ-সাত সেমি গভীরে লাগানো।

পরিচর্যা

  • গাছ বড় হলে দুই-তিনবার গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া; মুখী বড় হয় আর সবুজ হয় না।
  • শুকনো মৌসুমে নিয়মিত সেচ; বর্ষায় নালা দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের করা।
  • মাসে একবার কম্পোস্ট বা পাতলা স্লারি।
  • আগাছা পরিষ্কার; বড় পাতা হয়ে গেলে নিজেই আগাছা দমায়।

ফসল তোলা

ফসল তোলার প্রধান সময় ভাদ্র–আশ্বিন (মধ্য আগস্ট – মধ্য অক্টোবর)।

ভাদ্র-আশ্বিনে পাতা হলুদ হয়ে শুকাতে শুরু করলে গাছ তুলে মুখী আলাদা করা হয়। মাঝখানের বড় মাতৃকন্দ আর চারপাশের ছোট মুখী দুটোই রান্না হয়। কচুর পাতা আর ডাঁটাও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়, তবে মুখীর গাছ থেকে বেশি পাতা কাটলে ফলন কমে।

রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান

মুখীকচু-এর প্রধান রোগ-পোকা ও জৈব প্রতিকার
সমস্যালক্ষণজৈব সমাধান
পাতা ঝলসানো রোগবর্ষায় পাতায় পানিভেজা বেগুনি-বাদামি দাগ, দ্রুত বড় হয়ে পাতা পচেবাতাস চলাচল; ঘন না লাগানো; আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলা; সহনশীল জাত
কন্দ পচামাটির নিচে বা গুদামে মুখী পচেনিষ্কাশন; সুস্থ মুখী বাছাই; ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ
জাব পোকাপাতার নিচে পোকার দলসাবান-পানি বা নিমের নির্যাস
শুঁয়োপোকাপাতা খেয়ে ঝাঁঝরাহাতে বেছে নষ্ট

রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।

বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

মুখী দিয়ে চাষ হয়, তাই পরাগায়নের সংকর নিয়ে চিন্তা নেই। প্রধান কাজ সুস্থ, জাতের মতো গাছের মুখী আলাদা রাখা।

  1. মৌসুমে সবচেয়ে সতেজ, রোগমুক্ত, ফলনশীল গাছগুলো চিহ্নিত করুন।
  2. আশ্বিনে তোলার সময় সেই গাছগুলোর মাঝারি আকারের, আঘাতহীন মুখী বীজের জন্য আলাদা করুন।
  3. মাটি ঝেড়ে ছায়ায় কয়েক দিন শুকিয়ে নিন; ধোবেন না।
  4. শুকনো, ঠান্ডা, বাতাস চলাচলের জায়গায় মাচায় বা ঝুড়িতে পাতলা করে রাখুন, অথবা শুকনো বালি বা ছাইয়ের মধ্যে।
  5. মাসে একবার দেখে পচা মুখী সরান; ফাল্গুন-চৈত্রে লাগান।

বীজের আয়ু

বীজ-মুখী আশ্বিন থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত, প্রায় পাঁচ মাস রাখতে হয়। শুকনো, ঠান্ডা জায়গায় ভালো থাকে; আর্দ্রতায় পচে, খুব গরমে আগাম অঙ্কুর বের হয়।

পুষ্টিগুণ

মুখীকচুতে শর্করা, আঁশ, পটাশিয়াম আর কিছু ভিটামিন বি ও সি আছে। কচু পাতায় ভিটামিন এ ও আয়রন। মুখীর ঝোল, ভর্তা, ইলিশ দিয়ে মুখী জনপ্রিয়। কাঁচা কচু গলা চুলকায়; ভালো করে সেদ্ধ করে, প্রয়োজনে সামান্য লেবু বা তেঁতুল দিয়ে রান্না করলে চুলকানি কমে।

সীড ব্যাংকের খাতায়

প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।