মুগ
ফাল্গুন-চৈত্রে বোনা স্বল্পমেয়াদি ডাল, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে কাটা। রবি ফসল আর আমনের মাঝের ফাঁকা সময়টা কাজে লাগায়, আর গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে সবুজ সার।
- নাম
- মুগ · Mung bean · Vigna radiata
- পরিবার
- শিমজাতীয় (ফ্যাবেসি)
- জাতের ধরন
- মুক্ত-পরাগায়িত (স্বপরাগী) জাত; দেশি ও বারির জাত
- বপন বা রোপণ
- ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল)
- দূরত্ব
- সারি থেকে সারি প্রায় ৩০ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ১০ সেমি
- ফসল তোলা
- বোনা থেকে প্রায় ৬০–৭০ দিন · জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ়
- বীজ সংগ্রহ
- জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ়
- বীজের আয়ু
- বায়ুরোধী পাত্রে প্রায় দুই থেকে তিন বছর
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি মুগের দানা ছোট, সবুজ বা সোনালি; “সোনা মুগ” ধরনের দেশি জাত সুগন্ধি। বারির মুক্ত-পরাগায়িত মুগের জাত (যেমন বারি মুগ-৬) তুলনামূলক একসাথে পাকে আর হলুদ মোজাইক রোগে সহনশীল। মুগ স্বপরাগী, বীজ রাখা সহজ।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মুগ বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।
ফাল্গুন-চৈত্রে, রবি ফসল তোলার পর বোনা হয়। মাটিতে জো না থাকলে বোনার আগে একটি হালকা সেচ। সারিতে বা ছিটিয়ে; প্রতি শতাংশে আনুমানিক ১২০–১৪০ গ্রাম বীজ।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
এক-দুটি চাষ দিয়ে ঝুরঝুরে মাটি, সামান্য কম্পোস্ট। মুগ জলাবদ্ধতা সহ্য করে না, তাই নালা কেটে রাখা। ধানক্ষেতের যে খণ্ডে বোরো নেই, সেখানে মুগ ভালো বিকল্প।
পরিচর্যা
- বোনার তিন সপ্তাহের মধ্যে নিড়ানি।
- শুকনো আবহাওয়ায় ফুল আসার সময় একটি হালকা সেচ।
- কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমলে দ্রুত বের করা।
- হলুদ মোজাইকে আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে ফেলা।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ় (মধ্য মে – মধ্য জুলাই)।
জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে শুঁটি কালো-বাদামি হলে তোলা হয়। দেশি মুগের শুঁটি একসাথে পাকে না, তাই দুই-তিনবার হাতে শুঁটি তুলতে হয়; শুঁটি ফেটে দানা ঝরার আগে। শেষ তোলার পর গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে আমনের জন্য সবুজ সার।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| হলুদ মোজাইক ভাইরাস | পাতায় হলুদ-সবুজ ছোপ, গাছ খাটো, শুঁটি কম | সাদা মাছি নিয়ন্ত্রণ; সহনশীল জাত; আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা |
| ফল ছিদ্রকারী পোকা | ফুল ও শুঁটিতে ছিদ্র, ভেতরে কীড়া দানা খায় | আক্রান্ত শুঁটি তুলে নষ্ট; জমিতে ডাল পুঁতে পাখি বসার জায়গা; নিমের নির্যাস ফুল আসার সময় |
| সাদা মাছি | পাতার নিচে ছোট সাদা পোকা, ভাইরাস ছড়ায় | হলুদ আঠালো ফাঁদ; নিমের নির্যাস |
| পাতার দাগ রোগ | পাতায় বাদামি গোল দাগ | আক্রান্ত পাতা সরানো; ঘন না বোনা |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
মুগ স্বপরাগী, তাই সংকরের ঝুঁকি খুব কম। প্রধান কাজ রোগমুক্ত, জাতের মতো গাছ বাছাই আর মাড়াইয়ের সময় মিশ্রণ এড়ানো।
- জমির সবচেয়ে সুস্থ, সমান পাকা অংশ বীজের জন্য চিহ্নিত করুন; ভিন্ন রকম বা রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলুন।
- বেশির ভাগ শুঁটি বাদামি ও শুকনো হলে, ফেটে দানা ঝরার আগে, সকালে শিশির থাকতে গাছ কাটুন বা তুলুন।
- কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে কাপড় বা ত্রিপলের ওপর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাড়াই করুন।
- কুলায় ঝেড়ে খোসা, ধুলা আর ভাঙা দানা বাদ দিন।
- আরও দুই-তিন দিন রোদে শুকান; দাঁতে চাপ দিলে কট করে ভাঙলে তৈরি।
- ঠান্ডা হলে বায়ুরোধী পাত্রে নিমপাতা বা ছাইসহ রাখুন; ঢোরা পোকার জন্য মাসে একবার দেখুন।
বীজের আয়ু
মুগের বীজ আষাঢ়ে, বর্ষার শুরুতে সংগ্রহ হয়, তাই শুকানোয় বিশেষ যত্ন। ভালোভাবে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে দুই-তিন বছর চলে; ঢোরা পোকার জন্য নিয়মিত দেখা।
পুষ্টিগুণ
মুগ ডাল সহজপাচ্য, আমিষ, আঁশ, ফোলেট আর ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ। শিশু ও রোগীর পথ্যে খিচুড়ি বা পাতলা ডাল হিসেবে জনপ্রিয়। অঙ্কুরিত মুগও পুষ্টিকর।
মুগের খড় ও খোসা গরু-ছাগলের ভালো খাবার, আর শুঁটি তোলার পর গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে আমনের জন্য প্রাকৃতিক সারের কাজ করে।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।