শসা
সালাদ আর গরমের দিনের পানির সঙ্গী শসা। দেশি জাত দুই মৌসুমে চাষ হয়: শীতের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরুতে। বীজের জন্য শসা গাছে পাকিয়ে হলুদ-বাদামি করতে হয়।
- নাম
- শসা · Cucumber · Cucumis sativus
- পরিবার
- কুমড়াজাতীয় (কিউকারবিটেসি)
- জাতের ধরন
- দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত; বারির মুক্ত-পরাগায়িত জাতও আছে
- বপন বা রোপণ
- কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর) এবং ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল)
- দূরত্ব
- মাদা থেকে মাদা প্রায় ১ মিটার, সারি থেকে সারি প্রায় ১.৫ মিটার; নিচু মাচা বা মাটিতে
- ফসল তোলা
- বোনার প্রায় ৪০–৫০ দিনে প্রথম ফল · বৈশাখ–আষাঢ় এবং পৌষ–মাঘ
- বীজ সংগ্রহ
- আষাঢ় এবং মাঘ
- বীজের আয়ু
- চার থেকে পাঁচ বছর
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি শসা সাধারণত মোটা, হালকা সবুজ থেকে সাদাটে, কখনো গায়ে কাঁটা; পাকলে হলুদ বা বাদামি হয়ে খসখসে খোসা হয়। স্বাদে হালকা মিষ্টি ও কুড়মুড়ে। বাজারের অনেক শসার বীজ হাইব্রিড, বিশেষ করে যেগুলোর ফল একরকম লম্বা ও গাঢ় সবুজ। দেশি বীজ গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা সবচেয়ে ভালো।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শসা বোনা বা রোপণ করা হয় কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর) এবং ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।
দুই মৌসুম: কার্তিকে বুনে পৌষ-মাঘে ফল, আর ফাল্গুন-চৈত্রে বুনে বৈশাখ থেকে আষাঢ়ে ফল। মাদায় সরাসরি দুই-তিনটি বীজ, পরে একটি-দুটি চারা। শসার শিকড় নাড়াচাড়া পছন্দ করে না, তাই চারা করলে পলিব্যাগে, মাটির বলসহ লাগাতে হয়।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
মাদায় কম্পোস্ট ও পচা গোবর। শসা নিচু মাচা বা জাল বেয়ে ভালো হয়; মাটিতে রাখলে খড় বিছানো দরকার। সবজির বেডে টমেটো বা বেগুনের পাশে সারিতে লাগানো যায়।
পরিচর্যা
- লতা জালে তুলে দেওয়া বা নিচে খড় বিছানো।
- নিয়মিত পানি; পানির টান পড়লে ফল তিতা হতে পারে।
- প্রতি দুই সপ্তাহে পাতলা স্লারি।
- ফল নিয়মিত তোলা।
- পাউডারি মিলডিউর জন্য পাতা শুকনো রাখা, গোড়ায় পানি।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় বৈশাখ–আষাঢ় (মধ্য এপ্রিল – মধ্য জুলাই) এবং পৌষ–মাঘ (মধ্য ডিসেম্বর – মধ্য ফেব্রুয়ারি)।
সবুজ, শক্ত, বীজ নরম থাকতে তোলা হয়। ফুল ফোটার প্রায় এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনে খাওয়ার উপযোগী। দেরি করলে বীজ শক্ত হয় আর খোসা হলুদ হতে শুরু করে।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| লাল পামকিন বিটল | চারা ও কচি পাতায় ছোট লাল-কমলা পোকা, পাতা ঝাঁঝরা করে | সকালে শিশির থাকতে পাতায় ছাই ছিটানো; হাতে ধরে নষ্ট; চারা অবস্থায় হালকা জাল দিয়ে ঢেকে রাখা |
| মাছি পোকা (ফলের মাছি) | কচি ফলে ছিদ্র, ভেতরে পোকা, ফল হলুদ হয়ে পচে ঝরে পড়ে | ফেরোমন ফাঁদ; থেঁতো মিষ্টিকুমড়ার টোপ ফাঁদ; আক্রান্ত ফল তুলে গর্তে পুঁতে ফেলা; বীজের ফল কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগে ঢেকে রাখা |
| পাউডারি মিলডিউ | পাতার ওপরে সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ, পরে পাতা শুকায় | ঘন না লাগানো, বাতাস চলাচল; আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলা; পাতলা দুধ-পানির দ্রবণ (এক ভাগ দুধ, নয় ভাগ পানি) রোদেলা সকালে স্প্রে |
| মোজাইক ভাইরাস | পাতা কুঁকড়ে যায়, হলুদ-সবুজ ছোপ; গাছ বাড়ে না | জাব ও সাদা মাছি নিয়ন্ত্রণ (সাবান-পানি বা নিমের নির্যাস); আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা; এই গাছের বীজ রাখবেন না |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
শসা পোকার মাধ্যমে পরপরাগী। একই প্রজাতির অন্য জাত, এমনকি প্রতিবেশীর জমির হাইব্রিড, কাছাকাছি ফুটলে সংকর হতে পারে। তাই হয় এক মৌসুমে একটিই জাত, নয়তো বীজের ফলের জন্য হাতে পরাগায়ন করে ফুল ঢেকে রাখা (পদ্ধতি বীজ সংরক্ষণ পাতায়)। অন্তত কয়েকটি গাছ থেকে বীজ রাখুন, যাতে জাতের বৈচিত্র্য থাকে।
- সুস্থ গাছের কয়েকটি সুগঠিত ফল বীজের জন্য চিহ্নিত করুন।
- ফল গাছেই থাকবে যতক্ষণ না পুরো হলুদ বা বাদামি, খোসা খসখসে হয়; ফুল ফোটার প্রায় পাঁচ-ছয় সপ্তাহ পর।
- তুলে আরও এক-দুই সপ্তাহ ঘরে রেখে দিন, তারপর লম্বালম্বি কেটে বীজসহ শাঁস একটি পাত্রে নিন।
- সামান্য পানি দিয়ে দুই-তিন দিন রেখে দিন (গাঁজন); ওপরে সাদা স্তর পড়বে।
- পানিতে বারবার ধুয়ে ভাসমান বীজ ও শাঁস ফেলে দিন; ডুবে থাকা বীজ রাখুন।
- ছায়ায় ও হালকা রোদে কয়েক দিন শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন।
বীজের আয়ু
গাঁজন করে পরিষ্কার ও ভালোভাবে শুকানো শসার বীজ কয়েক বছর ভালো থাকে। দুই মৌসুমে চাষ হলেও বীজ বছরে একবার রাখাই যথেষ্ট।
পুষ্টিগুণ
শসার প্রায় পুরোটাই পানি, তাই গরমে শরীরের পানির চাহিদা মেটায়; সাথে ভিটামিন কে, কিছু ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও আঁশ। কাঁচা খাওয়া হয় বলে খোসাসহ ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে, আর তোলার আগের কয়েক সপ্তাহ গাছে তরল স্লারি দেওয়া যাবে না।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।