তিল
খরিফ-১ মৌসুমের খরা সহনশীল তেলবীজ তিল। কম পানিতে, কম যত্নে হয়, আর নিজেদের তিল থেকে তেল, তিলের নাড়ু আর ভর্তা।
- নাম
- তিল · Sesame · Sesamum indicum
- পরিবার
- তিলজাতীয় (পেডালিয়েসি)
- জাতের ধরন
- দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত; বারির মুক্ত-পরাগায়িত জাতও আছে
- বপন বা রোপণ
- ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল)
- দূরত্ব
- সারি থেকে সারি প্রায় ৩০ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ৫–১০ সেমি
- ফসল তোলা
- বোনা থেকে প্রায় ৮৫–৯৫ দিন · জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ়
- বীজ সংগ্রহ
- জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ়
- বীজের আয়ু
- প্রায় দুই থেকে তিন বছর
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি তিল কালো বা সাদা-বাদামি দানার। বারির মুক্ত-পরাগায়িত তিলের জাতও (যেমন বারি তিল-৪) আছে। তিল মূলত স্বপরাগী, বীজ রাখা সহজ। তিল জলাবদ্ধতা একেবারেই সহ্য করে না, তাই উঁচু, ভালো নিষ্কাশনের জমি বেছে নিতে হবে।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তিল বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।
ফাল্গুন-চৈত্রে, রবি ফসল তোলার পর, মাটিতে জো থাকতে বোনা হয়। বীজ খুব ছোট, তাই বালি বা ছাইয়ের সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে বা সারিতে; প্রতি শতাংশে আনুমানিক ৩০ গ্রাম বীজ।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
মিহি চাষ, সামান্য কম্পোস্ট। জমিতে নালা কেটে রাখা, কারণ জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টিতে পানি জমলে তিলের গাছ এক-দুই দিনেই মরে যায়। ধানক্ষেতের উঁচু খণ্ড বা সবজির বেডের পাশের ফাঁকা জায়গায় তিল ভালো হয়।
পরিচর্যা
- চারা গজানোর দুই-তিন সপ্তাহে পাতলা করা আর নিড়ানি।
- সাধারণত সেচ লাগে না; খুব শুকনো হলে ফুল আসার আগে একটি হালকা সেচ।
- বৃষ্টির পর জমির পানি দ্রুত বের করা।
- পাতা মোড়ানো পোকা ও শুঁয়োপোকা হাতে বেছে ফেলা।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় জ্যৈষ্ঠ–আষাঢ় (মধ্য মে – মধ্য জুলাই)।
জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরতে শুরু করলে আর নিচের দিকের ফল (ক্যাপসুল) হলুদ হলে, ক্যাপসুল ফাটার আগেই গাছ কেটে নেওয়া হয়। আঁটি বেঁধে মাথা ওপরে রেখে খাড়া করে দাঁড় করিয়ে শুকানো, নিচে ত্রিপল পেতে। কয়েক দিনে ক্যাপসুল খুলে গেলে আঁটি উল্টো করে ঝাঁকালেই দানা ঝরে পড়ে।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| পাতা মোড়ানো ও ফল ছিদ্রকারী পোকা | কচি পাতা জাল দিয়ে মোড়ানো, ফলে ছিদ্র | আক্রান্ত ডগা ছিঁড়ে নষ্ট; নিমের নির্যাস |
| কাণ্ড ও গোড়া পচা | জলাবদ্ধতার পর গাছ কালো হয়ে নেতিয়ে পড়ে | উঁচু জমি; নালা; শস্য পর্যায় |
| শুঁয়োপোকা | পাতা খেয়ে ফেলে | হাতে বেছে নষ্ট; পাখি বসার জায়গা |
| দানা ঝরা | ক্যাপসুল ফেটে মাঠেই দানা পড়ে যায় | নিচের ক্যাপসুল হলুদ হলেই কাটা; খাড়া করে শুকানো |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
তিল মূলত স্বপরাগী, তবে ফুলে মৌমাছি আসে বলে কিছু পরপরাগ হয়। দুটি জাত থাকলে কয়েক দশ মিটার দূরে। কালো আর সাদা তিল আলাদা রাখলে রং দেখেই বিশুদ্ধতা বোঝা যায়।
- জমির সুস্থ, সমান অংশের গাছ বীজের জন্য চিহ্নিত করুন।
- নিচের ক্যাপসুল হলুদ হলে আলাদা করে কেটে আঁটি বাঁধুন।
- ত্রিপলের ওপর মাথা ওপরে রেখে খাড়া করে শুকান।
- ক্যাপসুল খুলে গেলে আঁটি উল্টো করে ঝাঁকিয়ে দানা ঝরান।
- কুলায় বা চালুনিতে পরিষ্কার করে আরও দুই দিন রোদে শুকান।
- বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন; তেলবীজ বলে আর্দ্রতা থেকে রক্ষা জরুরি।
বীজের আয়ু
তিলের বীজ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে, বর্ষার শুরুতে সংগ্রহ হয়, তাই শুকানোয় বিশেষ যত্ন। ভালোভাবে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে দুই-তিন বছর চলে।
পুষ্টিগুণ
তিলে তেল, আমিষ, ক্যালসিয়াম, আয়রন আর আঁশ আছে। তিলের তেল, তিলের নাড়ু, তিল ভর্তা বাংলার প্রিয় খাবার। কালো তিলে ঘ্রাণ বেশি।
তিল ভাঙানোর পর যে খৈল থাকে, তা গরুর পুষ্টিকর খাবার, আর তিলের শুকনো কাণ্ড রান্নার জ্বালানি বা কম্পোস্টে যায়।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।