শব্দকোষ
এই ওয়েবসাইটে যে পরিভাষাগুলো বারবার এসেছে, সেগুলোর সহজ ব্যাখ্যা। পরিবারের সবাই যেন একই শব্দে একই জিনিস বোঝেন।
- অঙ্কুরোদগম হার
- একশটি বীজের মধ্যে কতটি গজায়, তার শতকরা হিসাব। ভেজা কাপড় বা বালিতে বীজ রেখে কয়েক দিনে পরীক্ষা করা হয়। হার কমে গেলে বীজ বেশি বুনতে হয় বা নতুন বীজ রাখতে হয়। দেখুন অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা।
- অংশীদারি চুক্তি
- পাঁচ পরিবারের মধ্যে লিখিত চুক্তি, যেখানে অংশ, খরচ ভাগ, সিদ্ধান্তের নিয়ম, প্রস্থান ও উত্তরাধিকারের শর্ত লেখা থাকে। রেজিস্ট্রি করলে আইনি ভিত্তি শক্ত হয়।
- আইল
- ধানক্ষেতের চারপাশের উঁচু মাটির বাঁধ, যা পানি ধরে রাখে আর খণ্ডগুলোকে আলাদা করে। আইলে চলাচলও করা যায়, আর তার ওপর ডাল বা শিম লাগানো যায়।
- আউশ
- খরিফ-১ মৌসুমের ধান, চৈত্র-বৈশাখে বোনা হয় আর আষাঢ়-শ্রাবণে কাটা হয়। স্বল্পমেয়াদি, অনেক দেশি জাত খরা সহনশীল।
- আমন
- বর্ষার ধান; আষাঢ়-শ্রাবণে বীজতলা, শ্রাবণ-ভাদ্রে রোপণ, কার্তিক-অগ্রহায়ণে কাটা। কালিজিরা, চিনিগুড়া আর নাইজারশাইলের মতো সুগন্ধি ও দেশি জাত আমন মৌসুমেই হয়।
- আর্দ্রতা
- বাতাস বা বীজের মধ্যে জলীয় অংশ। বীজ রাখার আগে ভালো করে শুকাতে হয়, কারণ আর্দ্রতা বেশি থাকলে বীজ পচে বা পোকা ধরে।
- আর্সেনিক
- কিছু এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে থাকা বিষাক্ত উপাদান। নলকূপের পানি খাওয়া ও সেচের আগে অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে।
- ইনব্রেড জাত
- বারবার নিজের মধ্যে পরাগায়নে স্থির হওয়া জাত, যেমন ব্রি-র অনেক উচ্চফলনশীল ধান। এদের বীজ রেখে আবার বুনলে একই রকম গাছ হয়, তাই আমাদের সীড ব্যাংকে চলতে পারে। হাইব্রিডের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না।
- ইনভার্টার
- ব্যাটারির ডিসি বিদ্যুৎকে ঘরের যন্ত্রের উপযোগী এসি বিদ্যুতে রূপান্তরের যন্ত্র। অফ-গ্রিড সৌর ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় অংশ।
- উশর
- জমির ফসলের ওপর ইসলামি বিধানমতে আদায়যোগ্য অংশ। পরিমাণ সেচের ধরন অনুযায়ী বদলায়; আমাদের খামারে কীভাবে প্রযোজ্য হবে তা আলেমের পরামর্শে ঠিক হবে।
- এফ-১ হাইব্রিড
- দুটি আলাদা মাতৃ-পিতৃ জাতের প্রথম প্রজন্মের বীজ। প্রথম বছর ফলন বেশি হলেও এর বীজ থেকে পরের বছর একই রকম গাছ হয় না, তাই প্রতি বছর কিনতে হয়। আমাদের খামারে নিষিদ্ধ। দেখুন কেন হাইব্রিড নয়।
- ওয়াকফ
- কোনো সম্পদ স্থায়ীভাবে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা, যার মালিকানা আর কারও থাকে না এবং যা বিক্রি বা উত্তরাধিকারে ভাগ করা যায় না। খামারের পাশের মসজিদের জমি ওয়াকফ হবে।
- ওয়াট-পিক
- সোলার প্যানেলের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা, আদর্শ রোদে মাপা। বাস্তবে রোদ, তাপমাত্রা আর ধুলার কারণে এর চেয়ে কম পাওয়া যায়।
- কম্পোস্ট
- গোবর, খড়, পাতা, রান্নাঘরের বর্জ্য স্তূপ বা গর্তে পচিয়ে তৈরি জৈব সার। মাটির গঠন আর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।
- কিলোওয়াট
- বিদ্যুৎ ক্ষমতার একক, এক হাজার ওয়াট। আমাদের সৌর ব্যবস্থা শুরুতে ৫ কিলোওয়াট, পরে ১০ কিলোওয়াট।
- কিলোওয়াট-ঘণ্টা
- বিদ্যুৎ ব্যবহারের একক, যাকে সাধারণ কথায় “ইউনিট” বলা হয়। এক কিলোওয়াটের যন্ত্র এক ঘণ্টা চললে এক ইউনিট খরচ হয়।
- কৃমিনাশক
- পশুর পেটের কৃমি দূর করার ওষুধ, নির্দিষ্ট বিরতিতে খাওয়াতে হয়। মাত্রা ও সময় পশু চিকিৎসকের পরামর্শে।
- কেঁচো সার
- কেঁচো দিয়ে গোবর ও জৈব বর্জ্য খাইয়ে তৈরি উন্নত সার, যাকে ভার্মি কম্পোস্টও বলা হয়। সাধারণ কম্পোস্টের চেয়ে দ্রুত তৈরি হয়।
- খতিয়ান
- জমির মালিকানা ও দাগের সরকারি রেকর্ড। সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস, বিভিন্ন জরিপের খতিয়ান মিলিয়ে মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা হয়।
- খরিফ
- গরম ও বর্ষার ফসল মৌসুম। খরিফ-১ চৈত্র থেকে আষাঢ়, খরিফ-২ শ্রাবণ থেকে আশ্বিন।
- গাঁজন পদ্ধতি
- টমেটো, শসার মতো ভেজা বীজের চারপাশের পিচ্ছিল আবরণ কয়েক দিন পানিতে পচিয়ে তুলে ফেলার পদ্ধতি। এতে বীজ পরিষ্কার হয় আর কিছু রোগও কমে।
- ঘাট
- পুকুরে নামার জন্য ইট বা পাকা সিঁড়ি, দুই পাশে বসার বেদিসহ। আমাদের বড় পুকুরে বাড়ির দিকে একটি বাঁধানো ঘাট থাকবে।
- চার্জ কন্ট্রোলার
- সোলার প্যানেল থেকে ব্যাটারিতে কতটা বিদ্যুৎ যাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে ব্যাটারি অতিরিক্ত চার্জ বা অতিরিক্ত খালি না হয়।
- চুন প্রয়োগ
- পুকুরের পানির অম্লতা কমাতে আর তলার মাটি শোধনে চুন দেওয়া। মাত্রা পানির পিএইচ দেখে ঠিক করা হয়।
- জিওল মাছ
- শিং, মাগুর, কৈয়ের মতো মাছ, যারা বাতাস থেকে সরাসরি শ্বাস নিতে পারে, তাই কম অক্সিজেনের পানিতেও বাঁচে।
- জৈব বালাইনাশক
- নিম পাতা বা বীজের নির্যাস, ছাই, সাবান-পানি, রসুন-মরিচের দ্রবণের মতো প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা ও রোগ দমন। দেখুন জৈব কীটনাশক।
- টিকা
- পশুপাখিকে নির্দিষ্ট রোগ থেকে রক্ষার জন্য দেওয়া প্রতিষেধক। খুরা রোগ, তড়কা, রানীক্ষেতের মতো রোগের টিকার সূচি রোগ প্রতিরোধ ক্যালেন্ডারে।
- ডাইজেস্টার
- বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের বাতাসহীন মূল কক্ষ, যেখানে গোবর পচে গ্যাস তৈরি হয়। আমাদের নকশায় এটি মাটির নিচে গম্বুজ আকৃতির।
- দাগ নম্বর
- মৌজা ম্যাপে প্রতিটি জমির খণ্ডের নির্দিষ্ট নম্বর। দলিল ও খতিয়ানে দাগ নম্বর মিলিয়ে জমি চিহ্নিত করা হয়।
- দোআঁশ মাটি
- বালি, পলি আর এঁটেল মাটির সুষম মিশ্রণ। পানি ধরে রাখে আবার অতিরিক্ত পানিও বের হয়ে যায়; বেশির ভাগ ফসলের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- নামজারি
- জমি কেনার পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম তোলার প্রক্রিয়া, যাকে মিউটেশনও বলা হয়। উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে করতে হয়।
- পরাগায়ন
- ফুলের পরাগরেণু এক ফুল থেকে আরেক ফুলে যাওয়া, যার ফলে ফল ও বীজ হয়। মৌমাছি, বাতাস বা হাত দিয়ে হতে পারে।
- পিএইচ
- মাটি বা পানি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তার মাপ। সাতের কম অম্ল, বেশি ক্ষার। বেশির ভাগ ফসল ও মাছ মাঝামাঝি অবস্থায় ভালো থাকে।
- প্ল্যাংকটন
- পুকুরের পানিতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী, যা কাতলা ও তেলাপিয়ার মতো মাছের প্রাকৃতিক খাবার। পানির হালকা সবুজ রং প্ল্যাংকটনের লক্ষণ।
- ফারায়েজ
- ইসলামি উত্তরাধিকার আইন, যা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হয়। অংশীদারদের উত্তরাধিকারের নিয়ম এর সাথে মিলিয়ে চুক্তিতে লেখা হবে।
- ফেরোমন ফাঁদ
- পোকার যৌন আকর্ষণকারী গন্ধ দিয়ে পুরুষ পোকা ধরার ফাঁদ। বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা আর কুমড়াজাতীয় ফসলের মাছি পোকা দমনে কার্যকর।
- বায়া দলিল
- বর্তমান মালিক যার কাছ থেকে জমি কিনেছেন, সেই আগের দলিলগুলো। মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাইয়ে বায়া দলিল দেখা জরুরি।
- বায়োগ্যাস
- গোবর বা জৈব বর্জ্য বাতাসহীন অবস্থায় পচে তৈরি দাহ্য গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন। রান্না ও বাতির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।
- বিঘা
- জমির প্রচলিত মাপ। এই ওয়েবসাইটে ১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, তবে অঞ্চলভেদে স্থানীয় বিঘার মাপ আলাদা হতে পারে।
- বীজতলা
- চারা তৈরির জন্য আলাদা করে প্রস্তুত ছোট জমি। ধান, বেগুন, টমেটো, মরিচের চারা বীজতলায় তৈরি করে মূল জমিতে রোপণ করা হয়।
- বোরো
- শীতের সেচনির্ভর ধান; অগ্রহায়ণ-পৌষে বীজতলা, পৌষ-মাঘে রোপণ, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে কাটা।
- ভূমি উন্নয়ন কর
- জমির ওপর সরকারকে দেওয়া বার্ষিক কর, প্রচলিত ভাষায় খাজনা। নিয়মিত পরিশোধের রসিদ মালিকানার প্রমাণে কাজে লাগে।
- মজুদ ঘনত্ব
- পুকুরের নির্দিষ্ট আয়তনে কতটি মাছের পোনা ছাড়া হবে। বেশি হলে মাছ ছোট থাকে আর রোগ বাড়ে।
- মাচা
- বাঁশ ও সুতা বা জাল দিয়ে তৈরি উঁচু কাঠামো, যার ওপর লাউ, শিম, ঝিঙার মতো লতানো সবজি বেয়ে ওঠে।
- মিশ্র চাষ
- একই জমি বা পুকুরে একাধিক ফসল বা মাছ একসাথে চাষ, যাতে জায়গা, খাবার ও পুষ্টির পূর্ণ ব্যবহার হয়। পুকুরে উপরের, মাঝের ও তলার স্তরের মাছ একসাথে রাখা এর উদাহরণ।
- মুক্ত-পরাগায়িত জাত
- প্রাকৃতিক পরাগায়নে বীজ হয় এমন জাত, যার বীজ রেখে পরের বছর বুনলে মূল গাছের মতোই গাছ হয়। দেশি জাতগুলো সাধারণত এমন। আমাদের সীড ব্যাংকের ভিত্তি।
- মুতাওয়াল্লি
- ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক, যিনি ওয়াকফকারীর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পত্তি দেখাশোনা ও হিসাব রাখেন। দেখুন রক্ষণাবেক্ষণ ও মুতাওয়াল্লি।
- মৌজা
- ভূমি জরিপের একক এলাকা, সাধারণত একটি গ্রাম বা তার অংশ। প্রতিটি মৌজার আলাদা ম্যাপ ও খতিয়ান থাকে।
- রবি
- শীতের শুকনো ফসল মৌসুম, কার্তিক থেকে ফাল্গুন। বেশির ভাগ সবজি, ডাল, সরিষা ও মসলা এই মৌসুমে হয়।
- রাইজোম
- মাটির নিচের মোটা কাণ্ড, যাকে চলতি ভাষায় কন্দ বলা হয়। আদা ও হলুদ বীজ থেকে নয়, রাইজোমের টুকরা থেকে চাষ হয়।
- লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি
- সৌর ব্যবস্থার জন্য তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ ধরনের লিথিয়াম ব্যাটারি। দাম বেশি, কিন্তু আয়ু ও ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতা লেড-অ্যাসিডের চেয়ে বেশি।
- লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি
- প্রচলিত ও সস্তা ব্যাটারি। পুরোপুরি খালি করলে দ্রুত নষ্ট হয়, আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ লাগে। দেখুন ব্যাটারি ও স্টোরেজ।
- শতাংশ
- জমির মাপ, এক একরের একশ ভাগের এক ভাগ, প্রায় ৪০.৫ বর্গমিটার বা ৪৩৬ বর্গফুট। দলিলে সাধারণত শতাংশে পরিমাণ লেখা থাকে।
- শস্য পর্যায়
- একই জমিতে মৌসুমভেদে ভিন্ন পরিবারের ফসল পালাক্রমে চাষ, যাতে মাটির পুষ্টি ও রোগ-পোকার ভারসাম্য থাকে। দেখুন শস্য পর্যায় ও মিশ্র চাষ।
- শূরা
- পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইসলামি নীতি। আমাদের পরিচালনা পরিষদ এই নীতিতে চলবে।
- সবুজ সার
- ধৈঞ্চা বা শণের মতো দ্রুত বর্ধনশীল গাছ জমিতে জন্মিয়ে ফুল আসার আগে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া, যা মাটিতে জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেন যোগ করে।
- সাইলেজ
- কাঁচা ঘাস বাতাসহীন অবস্থায় সংরক্ষণ করে তৈরি পশুখাদ্য, যা শুকনো মৌসুমে কাজে লাগে।
- সাথী ফসল
- মূল ফসলের পাশাপাশি বা ফাঁকে লাগানো আরেকটি ফসল, যা জায়গার সদ্ব্যবহার করে বা মূল ফসলকে পোকা থেকে রক্ষা করে।
- সীড ব্যাংক
- নিজেদের বীজ শুকিয়ে, পরিষ্কার করে, লেবেল দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণের ঘর। দেখুন সীড ব্যাংক পরিচিতি।
- স্লারি
- বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে বের হওয়া পচা গোবরের তরল অবশিষ্টাংশ, যা উৎকৃষ্ট জৈব সার।
- হাইব্রিড জাত
- দেখুন “এফ-১ হাইব্রিড”। বীজ রাখা যায় না বলে আমাদের খামারে কোনো হাইব্রিড জাত ব্যবহার হবে না।