মূল পরিকল্পনা

প্রশ্নোত্তর

পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা প্রতিবেশীরা যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি করেন, তার উত্তর এক জায়গায়। প্রশ্নে চাপ দিলে উত্তর খুলবে।

সাধারণ

খামারটি কি বাণিজ্যিক? বিক্রি হবে না?

না, খামারটি অবাণিজ্যিক। উৎপাদনের লক্ষ্য পাঁচ পরিবারের নিজেদের খাবার। কোন ফসল হবে তা বাজারদর দেখে নয়, রান্নাঘরের প্রয়োজন দেখে ঠিক হয়। উদ্বৃত্ত হলে প্রথমে খামারের শ্রমিক, তারপর প্রতিবেশী ও অভাবীদের সাথে ভাগ করা হবে। বিস্তারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পাতায়।

পাঁচ পরিবার কি খামারেই থাকবে?

পরিবারগুলো শহরেই থাকবে; খামার শহর থেকে গাড়িতে বিশ মিনিটের মধ্যে, যাতে সপ্তাহে কয়েকবার যাওয়া যায়। খামারে একটি তত্ত্বাবধায়ক পরিবার স্থায়ীভাবে থাকবে। বসতঘর আর অতিথিশালায় পরিবারগুলো ছুটিতে, ফসল কাটার মৌসুমে বা প্রয়োজনে থাকতে পারবে।

কত জমি লাগবে, আর কোথায়?

ন্যূনতম দশ বিঘা, অর্থাৎ ৩৩ শতাংশের বিঘা ধরলে প্রায় ৩৩০ শতাংশ বা ১৩,৪০০ বর্গমিটার। এর বাইরে মসজিদের জন্য আলাদা কিছু ওয়াকফ জমি। জায়গা এখনো চূড়ান্ত নয়; বাছাইয়ের মাপকাঠি আর স্কোরকার্ড জমি ও অবস্থান নির্বাচন পাতায়।

মালিকানা ও খরচ

কে কত টাকা দেবে?

উদ্যোক্তা পরিবার মোট বিনিয়োগের ৬০ শতাংশ, বাকি চার পরিবার ১০ শতাংশ করে। চলমান খরচও একই অনুপাতে ভাগ হবে। ভাগের হিসাব যন্ত্রে যেকোনো বাজেট বসিয়ে প্রতিটি পরিবারের ভাগ দেখা যায়।

মোট খরচ কত হবে?

এখনো চূড়ান্ত বলা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় খরচ জমির দাম, যা এলাকাভেদে অনেক আলাদা। এর পরে দেয়াল, পুকুর খনন, সৌর ব্যবস্থা আর ঘরবাড়ি। জমি বাছাইয়ের পর প্রতিটি খাতে অন্তত তিনটি দরপত্র নিয়ে বাজেট চূড়ান্ত হবে। খাতগুলোর তালিকা মালিকানা পাতায়।

৬০ শতাংশের মালিক কি একাই সব সিদ্ধান্ত নেবেন?

না। সিদ্ধান্ত চার স্তরে ভাগ। সাধারণ সিদ্ধান্তে প্রতি পরিবার এক ভোট। বড় আর্থিক সিদ্ধান্তে অংশ অনুযায়ী ভোটের পাশাপাশি অন্তত তিন পরিবারের সম্মতি লাগবে। আর মৌলিক পরিবর্তনে সর্বসম্মতি। বিস্তারিত পরিচালনা পাতায়।

কোনো পরিবার বেরিয়ে যেতে চাইলে কী হবে?

অংশটি প্রথমে বাকি পরিবারগুলোকে ন্যায্য দামে কেনার প্রস্তাব দিতে হবে। দাম ঠিক করবেন একজন নিরপেক্ষ মূল্যায়নকারী। জমি টুকরো করে ভাগ হবে না; বেরিয়ে যাওয়া পরিবার টাকায় অংশ ফেরত পাবে। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ফারায়েজ অনুযায়ী ওয়ারিশরা অংশ পাবেন।

চাষ ও বীজ

হাইব্রিড বীজে তো ফলন বেশি, তাহলে কেন নয়?

হাইব্রিডের বীজ রেখে পরের বছর বুনলে একই রকম গাছ হয় না, তাই প্রতি বছর কিনতে হয়, আর বীজের জন্য বাইরের ওপর নির্ভরতা থেকে যায়। দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাতের ফলন কিছুটা কম হলেও তারা স্থানীয় আবহাওয়ায় অভ্যস্ত, স্বাদে ভালো, আর বীজ নিজেরা রাখা যায়। আমাদের খামার বাণিজ্যিক নয়, তাই সর্বোচ্চ ফলনের চেয়ে স্বনির্ভরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তারিত কেন হাইব্রিড নয় পাতায়।

ব্রি বা বারির জাত কি চলবে?

যেসব জাত ইনব্রেড বা মুক্ত-পরাগায়িত, অর্থাৎ বীজ রাখলে একই রকম গাছ হয়, সেগুলো চলবে। ব্রি-র অনেক উচ্চফলনশীল ধান এই ধরনের। কিন্তু যেসব জাতের নামে “হাইব্রিড” আছে, সেগুলো চলবে না। প্রতিটি বীজের পাতায় স্পষ্ট লেখা থাকবে কোনটি রাখা যায়।

রাসায়নিক সার ছাড়া কি ফলন হবে?

হবে, তবে প্রথম এক-দুই বছর মাটি জৈব পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হতে সময় নেয়, তখন ফলন কিছুটা কম হতে পারে। গোবর, কম্পোস্ট, কেঁচো সার, বায়োগ্যাস স্লারি, সবুজ সার আর ডালজাতীয় ফসলের পালাবদলে মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে বাড়ে, আর তখন ফলন স্থির হয়।

পোকা লাগলে কী করবেন?

প্রথমে প্রতিরোধ: শস্য পর্যায়, সাথী ফসল, সুস্থ বীজ আর পরিষ্কার মাঠ। তারপর হাতে বাছাই, ফেরোমন ও আলোর ফাঁদ, নিমের নির্যাস, ছাই, আর পাখি ও উপকারী পোকাকে আশ্রয় দেওয়া। রাসায়নিক কীটনাশক কোনো অবস্থাতেই নয়। দেখুন জৈব কীটনাশক।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

শুধু সোলারে কি চলবে? বর্ষায় কী হবে?

৫ কিলোওয়াটের সৌর ব্যবস্থা আলো, পাখা, পানির পাম্প, ফ্রিজ আর মোবাইল-ল্যাপটপ চার্জের জন্য পরিকল্পিত। ভারী যন্ত্র যেমন এসি বা বৈদ্যুতিক চুলা চলবে না। বর্ষার মেঘলা দিনে উৎপাদন কমে যায়, তাই তখন কোন যন্ত্র আগে চলবে তার তালিকা আর পানি দিনের রোদে ট্যাংকে তুলে রাখার নিয়ম আছে। পরে ১০ কিলোওয়াটে উন্নীত হলে চাপ কমবে। দেখুন বর্ষা ও মেঘলা দিনের পরিকল্পনা।

বায়োগ্যাসের জন্য কতগুলো গরু লাগবে?

এটা নির্ভর করে প্রতিদিন কতজনের রান্না হবে আর প্ল্যান্ট কত বড়, তার ওপর। সাধারণভাবে ছোট পারিবারিক প্ল্যান্টের জন্য কয়েকটি গরুর নিয়মিত গোবর লাগে। সঠিক মাপ স্থানীয় বায়োগ্যাস প্রশিক্ষিত মিস্ত্রি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার পরামর্শে ঠিক হবে। হিসাবের পদ্ধতি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পাতায়।

প্রাণী ও আইন

ময়ূর বা হরিণ কি যে কেউ পালতে পারে?

না। ময়ূর ও হরিণ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রাণী। এদের পালনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স বা অনুমতি লাগে, আর নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হয়। অনুমতি না পেলে আমরা এগুলো পালব না। কর্তৃপক্ষের সাথে হালনাগাদ নিয়ম যাচাই করতে হবে।

কুরবানির পশু কি খামারেই বড় হবে?

পরিকল্পনা আছে খামারের দেশি গরু ও ছাগলের একটি অংশ কুরবানির জন্য বড় করার। পশুর বয়স, সুস্থতা আর শরিয়তের শর্ত মেনে, ভালো খাবার ও যত্নে। বিস্তারিত কুরবানি ও হালাল জবাই পাতায়।

ওয়াকফ ও মসজিদ

মসজিদ খামারের ভেতরে নয় কেন?

মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খামারের ভেতরে হলে প্রতিবেশী আর পথচারীদের প্রতিবার খামারের ফটক দিয়ে ঢুকতে হতো, যা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য ঝামেলা। তাই দেয়ালের বাইরে রাস্তার ধারে আলাদা ওয়াকফ প্লটে, নিজস্ব প্রবেশপথসহ।

ওয়াকফ করা জমি কি পরে ফেরত নেওয়া যায়?

না। ওয়াকফ স্থায়ী; একবার ওয়াকফ হলে জমির মালিকানা আর কোনো ব্যক্তির থাকে না, বিক্রি বা উত্তরাধিকারে ভাগ করা যায় না। তাই কতটুকু জমি ওয়াকফ হবে তা ভেবেচিন্তে ঠিক করতে হবে। ওয়াকফ দলিল সম্পাদনের পর ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধন করতে হয়; প্রক্রিয়াটি কর্তৃপক্ষের সাথে যাচাই করে নিন। দেখুন আইনি নিবন্ধন।

মসজিদের বিদ্যুৎ খামার থেকে যাবে?

পরিকল্পনা হলো মসজিদের ছাদে নিজস্ব ছোট সৌর ব্যবস্থা। এতে ওয়াকফ সম্পত্তির হিসাব খামার থেকে আলাদা থাকে, আর খামারের ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে না। দেখুন মসজিদের নকশা ও সৌর সংযোগ।

আপনার প্রশ্নের উত্তর এখানে না পেলে পরের মাসিক সভায় তুলুন; নতুন প্রশ্ন ও উত্তর এই পাতায় যোগ হবে। অপরিচিত শব্দের অর্থ শব্দকোষে।