ফসল ও মাটি
খামারের আসল সম্পদ মাটি। ভালো মাটি থেকে ভালো ফসল, আর ভালো ফসল থেকে পরিবারের খাবার। এই বিভাগে ঋতু ধরে ধরে কাজ, মৌসুমের পরিকল্পনা আর মাটিকে প্রতি বছর আগের চেয়ে উর্বর রাখার উপায়।
মাটি আগে
রাসায়নিক সার গাছকে সরাসরি খাওয়ায়; জৈব চাষে আমরা খাওয়াই মাটিকে, আর মাটি খাওয়ায় গাছকে। মাটিতে জৈব পদার্থ বাড়লে কেঁচো, উপকারী ছত্রাক আর অণুজীব বাড়ে, মাটি ঝুরঝুরে হয়, পানি ধরে রাখে, আর গাছ নিজেই রোগ-পোকার সাথে লড়তে পারে। তাই খামারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রশ্ন একটাই: এতে মাটি ভালো হচ্ছে কি না।
মাটির খাবার আসবে খামারের ভেতর থেকেই: গোয়ালের গোবর, বায়োগ্যাসের স্লারি, কম্পোস্ট, কেঁচো সার, ফসলের অবশিষ্টাংশ, ধৈঞ্চার সবুজ সার আর ডালজাতীয় ফসল। বছরে একবার মাটি পরীক্ষা করে দেখা হবে জৈব পদার্থ আর পিএইচ কোন দিকে যাচ্ছে।
চাষের পাঁচ নিয়ম
- জমি কখনো খালি নয়: ফসল না থাকলে সবুজ সার, ঢাকনা ফসল বা খড়ের মালচ।
- একই জায়গায় একই পরিবার পরপর নয়: শস্য পর্যায় মেনে ফসল ঘোরানো।
- বৈচিত্র্য: সাথী ফসল, মিশ্র চাষ, আর জমির চারপাশে ফুলের গাছ, যাতে উপকারী পোকা থাকে।
- প্রতিরোধ আগে, প্রতিকার পরে: সুস্থ বীজ, সঠিক সময়, সঠিক দূরত্ব; তারপর প্রয়োজনে জৈব বালাইনাশক।
- পানি সাশ্রয়: ড্রিপ, মালচ আর ধানে পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো।
ঋতু ও মৌসুম
বাংলাদেশের প্রকৃতি ঘোরে ছয় ঋতুতে, আর কৃষি চলে তিন ফসল মৌসুমে। প্রতিটি ঋতুর পাতায় আবহাওয়া, মাঠের কাজ, পুকুর ও পশুর যত্ন, বীজের কাজ আর ঝুঁকির তালিকা; প্রতিটি মৌসুমের পাতায় আমাদের খামারের জমি কীভাবে ভাগ হবে। ফসলের তালিকাগুলো শস্য ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি আসে।
- গ্রীষ্ম · বৈশাখ–জ্যৈষ্ঠ
- বর্ষা · আষাঢ়–শ্রাবণ
- শরৎ · ভাদ্র–আশ্বিন
- হেমন্ত · কার্তিক–অগ্রহায়ণ
- শীত · পৌষ–মাঘ
- বসন্ত · ফাল্গুন–চৈত্র
খরিফ-১
চৈত্র–আষাঢ় · মধ্য মার্চ – মধ্য জুলাই
আউশ, মুগ, তিল আর গরমের শাক-সবজি।
খরিফ-২
শ্রাবণ–আশ্বিন · মধ্য জুলাই – মধ্য অক্টোবর
আমন, বর্ষার মাচা সবজি, শীতের প্রস্তুতি।
রবি
কার্তিক–ফাল্গুন · মধ্য অক্টোবর – মধ্য মার্চ
শীতের সবজি, ডাল, সরিষা, মসলা, বোরো।
মাঠের খাতা
প্রতিটি খণ্ড আর বেডের জন্য একটি সাধারণ খাতা রাখা হবে: কবে কী বোনা হলো, কোন বীজের লট, কতটুকু কম্পোস্ট, কোন রোগ-পোকা দেখা গেল, আর কতটুকু ফসল উঠল। কয়েক বছরের খাতা দেখালে বোঝা যাবে কোন জমিতে কোন ফসল ভালো হয়, আর শস্য পর্যায় ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না। এই তথ্যই মৌসুমি পরিকল্পনা সভার আলোচনার ভিত্তি।
জমির ভাগ
খামারের পশ্চিমে প্রায় দুই হাজার বর্গমিটারের ধানক্ষেত, আইল দিয়ে চার খণ্ডে ভাগ; তার দক্ষিণে আটটি উঁচু সবজির বেড; পুকুরপাড়ে তিন সারি মাচা; আর পাড় ও সীমানা ধরে ফলগাছ। পূর্বে গোয়ালের পাশে ঘাসের প্লট আর কম্পোস্টের জায়গা। পুরো নকশা মাস্টারপ্ল্যানে।