মাছ ও পুকুর

মাছ ও পুকুর

দুটি পুকুর, চৌদ্দ রকম মাছ, কোনো হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিক নয়। বড় পুকুরে কার্পের মিশ্র চাষ আর ছোট দেশি মাছ, ছোট পুকুরে জিওল মাছ আর হাঁস।

২টি পুকুরবড় প্রায় ২৫ শতাংশ, ছোট প্রায় ৬ শতাংশ
১৪ প্রজাতিকার্প, জিওল, ছোট দেশি মাছ ও গলদা
০হরমোন, অ্যান্টিবায়োটিক বা রাসায়নিক সার
সারা বছরআংশিক আহরণে নিয়মিত মাছ

বড় পুকুর · কার্পের মিশ্র চাষ

প্রায় ৪০ × ২৬ মিটার, গভীরতা ২–২.৫ মিটার। খামারের মাঝখানে, দক্ষিণ পাড়ে বাড়ির দিকে মুখ করা বাঁধানো ঘাট। এখানে তিন স্তরে কার্প মাছ, সাথে নিজে নিজে বংশ বাড়ানো ছোট দেশি মাছ আর সীমিত গলদা চিংড়ি। পশ্চিম পাড়ে রাজহাঁসের ঘেরা জায়গা, উত্তর ও পূর্ব পাড়ে মাচা।

ঐচ্ছিক, সীমিত: তেলাপিয়া, শোল, পাঙ্গাস

ছোট পুকুর · জিওল মাছ ও হাঁস

প্রায় ১৮ × ১৪ মিটার, গভীরতা ১.৫–২ মিটার। বসতঘরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, পাড়ে হাঁসের ঘর। শিং, দেশি মাগুর আর কৈয়ের মতো জিওল মাছ, যারা কম অক্সিজেন সহ্য করে, আর হাঁসের বিষ্ঠায় জন্মানো প্রাকৃতিক খাবার খায়। বড় পুকুর মেরামত বা শুকানোর সময় মাছ রাখার বিকল্প জায়গাও এটি।

কেন নিজেদের পুকুর

বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে মাছ প্রায় অপরিহার্য। বাজারের চাষের মাছে কী খাবার, কোন ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার হয়েছে, তা জানার উপায় নেই। আমাদের দুটি পুকুরের লক্ষ্য তাই পাঁচ পরিবারের পাতে নিরাপদ, জৈব পদ্ধতিতে বড় হওয়া মাছ, বছরের বেশির ভাগ সময়।

পুকুর শুধু মাছের জায়গা নয়। বর্ষার পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে সবজি আর বোরো ধানে সেচ দেয়, হাঁস-রাজহাঁসের চরার জায়গা হয়, পাড়ের মাচায় সবজি জন্মায়, আর ঘাটে বসে পরিবারগুলোর সময় কাটে। তলার পলি কয়েক বছর পরপর জমিতে সার হিসেবে ফিরে যায়।

মাছ চাষের নীতি

  • প্রাকৃতিক খাবার আগে: পরিমিত জৈব সারে জন্মানো প্ল্যাংকটনই প্রধান খাবার; সম্পূরক হিসেবে কুঁড়া, খৈল, কেঁচো আর রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট।
  • কম ঘনত্ব: বাণিজ্যিক খামারের চেয়ে অনেক কম মাছ, যাতে পানি ভালো থাকে আর রোগ কম হয়।
  • হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক নয়: মনোসেক্স তেলাপিয়া বা ওষুধ মেশানো খাবার নয়।
  • দেশি প্রজাতি অগ্রাধিকার: মলা, পুঁটি, টেংরা, দেশি মাগুর ও কৈ; আফ্রিকান মাগুরের মতো নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর মাছ কখনো নয়।
  • আংশিক আহরণ: পুরো পুকুর একবারে খালি না করে বড় মাছ তুলে ছোট মাছ রেখে দেওয়া, আর আহরণের সমান নতুন পোনা ছাড়া।

পুকুরের বারো মাস

মাসভিত্তিক পুকুরের কাজ
সময়প্রধান কাজ
পৌষ–মাঘশুকনো মৌসুম। দুই-তিন বছরে একবার পুকুর শুকিয়ে তলার অতিরিক্ত কাদা তোলা, পাড় মেরামত; শীতে খাবার কমানো আর ক্ষত রোগের দিকে নজর।
ফাল্গুনশুকানো পুকুরে প্রতি শতাংশে প্রায় ১ কেজি চুন, এক সপ্তাহ পর জৈব সার, তারপর পানি ভরা।
চৈত্র–বৈশাখপানি হালকা সবুজ হলে কার্পের পোনা ছাড়া; ছোট দেশি মাছের মা-বাবা মাছ ছাড়া।
বৈশাখ–আষাঢ়গলদার জুভেনাইল আর ছোট পুকুরে জিওল মাছের পোনা; নিয়মিত খাবার ও সার।
শ্রাবণ–ভাদ্রভরা বর্ষা। পানি ঢোকা-বের হওয়ার পথের জাল পরীক্ষা, পাড় উপচে মাছ বেরিয়ে যাওয়া রোধ; মেঘলা দিনে অক্সিজেন ঘাটতির দিকে নজর।
আশ্বিন–কার্তিকদ্রুত বৃদ্ধির সময়; শীতের আগে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক করা; কার্তিক থেকে আংশিক আহরণ শুরু।
অগ্রহায়ণবড় মাছ ও গলদা আহরণ, শীতের আগে; সেচের জন্য পানির মাপকাঠি দেখা।

এগুলো সাধারণ সময়সূচি; প্রতি বছরের বৃষ্টি আর তাপমাত্রা দেখে আগে-পিছে হবে। পোনার উৎস আর নতুন নিয়মকানুন জানতে উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

এই বিভাগের সব পাতা